রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন
হুতিদের ব্যালিস্টিক রকেট—ইসরায়েলের বুক চিরে সোজা প্রতিশোধ!
অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আগের চেয়েও বেশি কড়া অবস্থানে যাচ্ছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা। সম্প্রতি একাধিকবার ইয়েমেনে ইসরায়েলি হামলার জবাবে এবার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
সোমবার (৭ জুলাই) এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানায়, হুতিদের এক প্রভাবশালী নেতা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান থামবে না। যতদিন গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন চলবে, ততদিন তাদের প্রতিরোধও চলবে। ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকার অঙ্গীকার আবারও জোরালোভাবে ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হুতিরা ইসরায়েলের বেন গুরিওন বিমানবন্দরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর জবাবে ইসরায়েল হামলা চালায় হোদেইদাহ, রাস-ইসা ও আস-সালিফ বন্দর এবং রাস কাথিব বিদ্যুৎকেন্দ্রে। তারা হুতিদের অধীন গ্যালাক্সি লিডার জাহাজের রাডারেও হামলা চালায়। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নভেম্বরে হুতিরা জাহাজটি নিজেদের দখলে নেয়। এটি পরিচালিত হয় জাপানি একটি কোম্পানির মাধ্যমে, তবে মালিকানায় ছিল একটি ইসরায়েলি-সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের নাম।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিচাই আদ্রেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, এসব স্থাপনা মূলত ইরান থেকে অস্ত্র সরবরাহের রুট এবং হুতিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরে হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
রোববার আরেক ঘটনায়, ব্রিটিশ মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানায়—লোহিত সাগরে হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সশস্ত্র নৌকা একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার চেষ্টা করে। আরপিজি ও আগ্নেয়াস্ত্রে চালানো হামলাটি নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয় এবং হামলাকারীরা সরে যায়। এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আগে থেকেই সতর্ক করে আসছে—বন্দর ও সাগরপথে হামলা পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়াতে পারে এবং যুদ্ধাপরাধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে গাজা থেকেও ইসরায়েল লক্ষ্য করে রকেট হামলা হয়েছে। এতে সীমান্তবর্তী নিরিম ও আশপাশের এলাকায় বাজানো হয় সাইরেন।
রোববার (৭ জুলাই) রাতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, রাত ৯টার দিকে দক্ষিণ গাজা থেকে ছোড়া একটি রকেট নিরিম এলাকার পাশে খোলা স্থানে আঘাত হানে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি।
পরবর্তীতে হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেড এই হামলার দায় স্বীকার করে। তারা জানায়, খান ইউনুসের উত্তরের আল-সাতার ও আল-কারারায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর মর্টার শেল ছোড়া হয়েছে। সেইসঙ্গে নিরিম ও আইন হাশলোশায় ১১৪ মিমি রাজউম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।